খিচুড়ির পরিবর্তে ‘মিড ডে মিলে’ বিস্কুট পাবে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা

দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং প্রকল্পে আপাতত নতুন কোনো বরাদ্দ হচ্ছে না। বরাদ্দ ছাড়াই আগামী এক বছর এ প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তাব পাঠিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।

এক্ষেত্রে ‘মিড ডে মিল’ প্রকল্পের খিচুড়ির পরিবর্তে পুষ্টিকর বিস্কুট বিতরণ কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানা গেছে। এক বছর পর প্রকল্পটি নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করা হবে।

জানা গেছে, ‘মিড ডে মিল’ প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ জুন। এ অবস্থায় এ খাতে নতুন বাজেট দিচ্ছে না সরকার। বলা হয়েছে, খরচ কমাতে এ প্রকল্পের বিকল্প চিন্তা করতে।

কিন্তু বিকল্প কী ব্যবস্থা রাখা হবে সেটার জন্য বছরখানেক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। তাই ১ জুলাই থেকে আগের বাজেটের উদ্বৃত্ত অংশ থেকে এ প্রকল্পের কাজ চালিয়ে নেয়া হবে।

ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের স্কুল মিল কার্যক্রম চলমান রাখা পর্যায়ক্রমে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রসারণের জন্য ১৭ হাজার ২৯০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে একটি বিনিয়োগ প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছিল।

এ প্রকল্প প্রস্তাব গত ১ জুন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমােদনের জন্য সুপারিশ করা হয়নি। সভায় চলমান স্কুল মিল প্রকল্পটি পর্যালােচনা করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

যেহেতু চলমান স্কুল ফিডিং প্রকল্পটি ৩০ জুন শেষ হবে তাই, জুলাই থেকে বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা সম্ভব হবে না।

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়কালীন পুষ্টির অভাব পূরণ এবং ক্ষুধা নিবারণে স্কুল মিল প্রদান করা না হলে স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, চলমান প্রকল্পসহ অনান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পর্যালােচনা করে একটি কার্যকর মডেল নির্ধারণ এবং ব্যয় প্রাক্কলনের যথার্থতা যাচাই করার জন্য কমপক্ষে এক বছর সময় প্রয়ােজন হবে।

এক্ষেত্রে চলতি মাস পর্যন্ত চলমান প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় হবে ৪ হাজার ৫১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি খাতে ব্যয় হবে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্যের সমুদয় অর্থ ব্যয় হবে না। অর্থাৎ, জিওবি খাতে ৪৭৩ কোটি ৯ লাখ টাকা অব্যয়িত থাকবে।

এ অবস্থায়, অব্যয়িত অর্থ দিয়ে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের চলমান বিদ্যালয়সমূহে কেবল উচ্চ পুষ্টিমান সমৃদ্ধ বিস্কুট প্রদান করা হলে জুলাই ২০২১ হতে ১২ মাস এ কার্যক্রম চালানাে সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক এ এম মনসুরুল আলম বলেন, সার্বিক দিক বিবেচনা করে চলমান দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি (৩য় সংশােধিত) প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে চলমান প্রকল্পে বিদ্যালয়ে বিস্কুট বিতরণের জন্য নিয়ােজিত এনজিওগুলাের সাথে চুক্তির মেয়াদ চলতি জুন মাসেই শেষ হবে। তিনি বলেন, ব্যয় সাশ্রয় করার লক্ষ্যে আগামী মাস (জুলাই) থেকে ২০২২ সালের জুন মাস পর্যন্ত ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে প্রকল্পটি বর্ধিত করা হলে এনজিওদের সাথে চুক্তি করার প্রয়ােজন হচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের নিজস্ব জনবল দ্বারা বিস্কুট বিতরণের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

Check Also

১১তম গ্রেডের দাবি প্রাথমিকের শিক্ষকদের

১৩টি দাবিসহ ১১তম গ্রেডে বেতন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। শনিবার (২৬ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *